ন্বভনানেন্র গাল

বোলপুর ব্রঙ্গচর্য্যাশ্রমের অধ্যক্ষ জাজগঙ্গামল্দ ক্লান্ত প্রণীত

ইগ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড,

এলাহাবাদ ১৯২

রব স্বত্ব রক্ষিত [ মূলা ১২ এক টাকা মাত্র

প্রাপ্তিস্থান ইগ্ডিয়ান্‌ প্রেস লিমিটেড--এলাহাবাদ |

ইগ্ডিয়ান্‌ পাবলিশিং হাউস-__-কলিকাত। |

এলাহাবাদ, ইতিয়ান প্রেস লিমিটেড হইতে,

্রীঅপূর্বকৃষণ বনু দ্বারা মুদ্রিত প্রকাশিত!

নিবেদন এই ছোট পুস্তকখানি বালকবালিকীদের জন্য লিখিত হইল। উহা পড়িয়া তাহারা আনন্দ লাভ করিলে কৃতাথ হইব

বন্ষচয্যাশ্রম' শান্তিনিকেতন, | চ্ রি আশ্বিন, ১৩১৭। ] আীজগদান্পল্দ ল্লান্

০্লীআ্ভাগাযজলত্ভী ীমতী বেণুকা দেবী

কল্যাণীষান্

রি ২। ) |

৪1

১৩। ১৪।

১৫

ুজীপত্র র্্য হুর্ধোর তাপ আলো আলোর উৎপত্তি শবের উৎপত্তি রঙিন আলো রঙের খেলা মেঘ বৃ মেঘের আকৃতি প্রকৃতি ... গাছের ঘুম রক্ত ব্যাঙাচি বা মাছ আমাদের খান শরীরের বিষ

১৭ ৩৪

৪২

৫9

৬৮

৮1৮ ৪৫ ১৪৩৪ ১১৬

১২৩

ন্বিভভানেন্ গঙ্গ্র

শা টিটি --77-

সর্ধ্য

ীশিন মাসে পুজার ছুটির সময়ে খুব ভোরে শিউলি ফুলের গন্ধে যখন তোমাদের বাগানখানি ভরপুর, তখন এক- বার বিছান| ছাড়িয়া ব|গানে আলিয়া দাড়াইয়ো। বাগানের ঘাসগুলি শিশিরে-মাখ| ; ঘাসের উপরে দাড়াইলেই পা ভিজিয়া যায়। তখনো একটু-একটু অন্ধকার আছে,_-নব পাখা বাসা ছাড়িয়া বাহির হয় নাই। তোমরা অন্ধকারকে যেমন ভয় কর, পাখীরাও সেই-রকম তয় করে। কেবল দুরের কদম গাছটির মাথায় দুষ্টা কাক “কা-কা” করিতেছে তখনো তাহাদের গলার আওয়াজ খোলে সমস্ত রাত্রি মুখ বুজিয়া ঘুমাইয়া৷ থাকায় তাহাদের গলার আওয়াজ তখনো জাড়ষ্ট। দেখিতে দেখিতে চারিদিক্‌ ফর্সা হইয়া গেল। কাঠ- বিড়ালরা টাপা গাছে লাফালাফি সুরু করিয়! দিল। ছাঁভারে পাখীদের সাত তাই নেবু-তলায় অনাবশ্যক বকাবকি লাফালাফি জুড়িয়। দিল। কেবল ফিডে রোদ গোহাইবার জন্য ঝ|উগাছের মাথায় চুপ করিয়া বসিয়া রহিল।

বিজ্ঞানের গল্প

রৌদ্র উঠিল। কিন্ুন্দর রৌদ্র! সোঁনার মত তাহার রঙ্‌। এখন আর সে-রকম ঠাণ্ডা নাই,_-গোরু-বাছুর গোয়াল ছাড়িয়া আঙিনায় আসিয়া দাড়াইল। তোমাদের বাড়ীর ঝি ঘর ঝাট দিতে স্বর করিল এবং রাস্তায় লোক-চলা আরম্ত হইল।

একটু আগে যে-ন্ধকার যে-স্তব্ধতা ছিল, তাহা কেন দুরে গেল,__তোমর! ভাবিয়া! দেখিয়াছ কি? সুধ্যের আলোই অন্ধকারকে তাড়াইয়াছে এবং তাহাই সকলকে জাগাইয়া তুলিয়াছে।

কেবল আলো দেওয়াই কি সুধ্যের কাজ? তা নয়। সূর্যা হইতে আমরা তাঁপও পাই। পৌষ মাসের শীতের দ্রিনে রৌদড্রে দীড়াইলে শরীর কেমন গরম হয়, তোমরা দেখ নাই কি? তার পরে চৈত্রবৈশাখ মাসের রৌব্রের কথা মনে করিয়া দেখ। তখন রৌদ্রে বাহির হওয়াই দায় মাটি বালি তাতিয়া আগুনের মত হয়; পুকুরের জল রৌদ্রের তাপে শুকাইয়া যায়। সুধ্যের তাপ কি ভয়ানক '

চোখে সূর্য টাকে আকারে প্রায় একই রকমের দেখায়। কিন্তু চাদের আলো! খুব কম এবং তাহার তাপ একবারে বুঝাই যায় না। সূর্ধ্য কি-রকম জিনিস এবং তাহার এত তাপ আলে! কোথা হইতে আসে, এসব কথা তোমাদের জানিতে ইচ্ছা করে না কি? আজ তোমাদের সেই-সব কথাই একে-একে বলিৰ।

সৃধ্য শব প্রথমে সুধ্যের আকারের কথাটাই বলা যাক্‌। আকারে সূধ্য ভয়ানক বড়,_-এত বড় যে পৃথিবীর উপরকার বড় বড় পাহাড়পর্ববতকে তার সঙ্গে তুলনা করাই যায় না। এমন কি, আমরা যে পৃথিবীর উপরে বাস করি, তাহার চেয়েও সূর্য্য অনেক বড়। তোমর! হয় ভাবিতেছ,_-এ-কথা ঠিক নয়। যে- সুষ্যকে প্রতিদিন প্রাতে একখানি থালার আকারে আকাশের গায়ে দ্রেখা ঘায়, তাহা! আবার কেমন করিয়| আমাদের পৃথিবীর চেয়ে বড় হইবে? কিন্তু সত্যই সূয্য প্রকাণ্ড জিনিস। খুব দূরে আছে বলিয়াই, ইহাকে আমরা ছে!ট দেখি। দুরের জিনিস যে ছোট দেখায় ইহা তোমরা জানে! নাকি? হাড়গিলে, শকুন, চিল খুব ঝড় পাখী। যখন গাছের ডালে বসিয়া থাকে, তখন ইহাদের কাছে ফাইতে ভয় হয়। কিন্তু ইহারাই যখন আকাশের খুব উঁচু জায়গায় উড়িয়া বেড়ায়, তখন সেগুলিকে কত ছোট বলিয়া বোধ হয়, তোমরা দেখ নাই কি? বড় বড় গিন্নী শকুনকে তখন চড়াই বা শালিক পাখীর মত ছোট দেখায়। তার পরে তোমরা যখন ঢাউস্‌ ঘুড়ি উড়াইতে থাক, তখন খুব উপরে উঠাইলে সেটিকে ছোট দেখায় নাকি? অত বড় ঘুঁড়ি- খানাকে বোধ হয় যেন একটা কাগজের টুকরো দুরে থাকিলে সকল বড় জিনিসকেই এই-রকম ছোট দেখায়। এখন বোধ হয় তোমরা বুঝিয়াছ, থালার মত ছোট

বিজ্ঞানের গল্প

দেখায় বলিয়া সূধ্য ছোট জিনিস নয়। সূর্য অতি-প্রকাণ্ড জিনিস!

পৃথিবী কত বড়, তাহা বোধ হয় তোমরা ভূগগোলে পড়িয়াছ। ইহার বেড় প্রায় পঁচিশ হাজার মাইল। মনে কর, কলিকাতায় জাহাজে চড়িয়া আমরা পৃথিবী ঘুরিতে বাহির হইলাম। প্রথমে ভারত-সাগর দিয়া জাহাজ চলিল। তার পরে স্থুয়েজ খালের ভিতর দিয়া, ভূমধ্যসাগর পার হইয়া ইংলগ্ডের কাছে আট্লা্টিক মহাসাগরে গড়া গেল। শেষে আমেরিকার কাছ 'দিয়া, প্রশান্ত মহাসাগর, জাপান চীন দেশ ছাড়িয়া আবার কলিকাতায় পৌছানো হইল। এই রাস্ত।ট। প্রায় পঁচিশ হাজার মাইল সুতরাং বলিতে হয়, পৃথিবীর বেড় পচিশ হাজার মাইল।

আজকাল অনেকে জাহাজে চড়িয়৷ এতটা পথ যাইতেছে এবং পৃথিবী ঘুরিয়া আসিতেছে। জাহাজ বন্দরে বন্দরে থামে, এবং কয়লা জল বোঝাই লয়। তাই এ-রকমে পৃথিৰী ঘুরিয়া আসিতে ছুই তিন মাস সময় লাগে। পুথিবী ফুটবলের মত গোল জিনিস। ফুটবলের চামড়ার যে সেলাইয়ের দাগ থাকে, তোমরা! দেখ নাই কি? মনে কর, সেই সেলাইয়ের দাগের মত এক রেল-রাস্তা যেন পৃথিবীর উপর দিয়! ঘুরিয়া আসিয়াছে এবং আমরা যেন সেই রেল-লাইনের একখানি ডাক্গাড়ীতে চাপিয়া পৃথিবী ঘুরিতে বাহির হইয়াছি। গাড়ী কোনে জায়গায় থামিল না,_দিন-রাত হুস্-হাস্‌ করিয়া

সৃধ্য ৫. ছুটিতে লাগিল। এ-রকমে পৃথিবী ঘুরিয়া আসিতে আমাদের একুশ-বাইশ দিনের বেশি সময় লাগিবে না

তিন চারি ইঞ্চি লম্বা লোহার শলা বা বড় ছুঁচ দিয়৷ একটা লেবুকে ফৌঁড়া যায়। পৃথিবী লেবুরই মত গোল। মনে কর, আকাশ-জোড়। এক প্রকাণ্ড রাক্ষমকে ডাকিয়া আমরা বলিলাম, তুমি মাঝামাঝি একটা শলা চালাইয়! আমাদের পৃথিবীকে ফুঁড়িয়। দ!ও। রাক্ষস খুব লম্বা শলা আনিল এবং তাহার মাথার উপরকাঁর ঝড়ের মেঘের মত চুলগ্ুলোকে দোলাইয়া পৃথিবীর এপিঠ হইতে ওপিঠ পর্যন্ত একটা প্রকাণ্ড শল চালাইয়। দ্িল। এই শলাটিকে তোমর! যদি মাপ কর, তাহা হইলে ইহাকে প্রায় আট হাক্ষার মাইল লম্বা দেখিবে। কাজেই বলিতে হয়, যদি আমরা কুয়োর মত খুঁড়িয়া পৃথিবীর এপিঠ হইতে 'ওপিঠে যাইতে চাই, তবে নুড়ঙ্গটিকে আট হাজার মাইল গভীর করিতে হইবে

তাহা হইলে তোমরা বোধ হয় বুঝিয়াছ, আমাদের পৃথিবীখানি নিতান্ত ছোট নয়। কিন্তু সূষ্য পৃথিবীর চেয়ে অনেক বড়। এত বড় যে আন্দাজ করাও শক্ত কতক- গুলি উদাহরণ দিই, তাহাতে আন্দাজ করিতে পারিবে

পৃথিবীর বেড় পঁচিশ হাজার মাইল। রেল-গাড়ীতে চড়িয়া পৃথিবী ঘুরিয়া আসিতে একুশ-বাইশ দিন সময় লাগে ইহা তোমরা শুনিয়াছ। মনে কর, সুধ্যকে ঘিরিয়া রেল- রাস্তা আছে। আমরা যেন তাহারি একখানা গাড়ীতে

বিজ্ঞানের গল্প

চাপিয়াছি। গাড়ী হু-ছ শবে দিবারাত্রি চলিতে আারস্ত করিল। তোমরা কত দিনে এই-রকমে সূষ্যকে বেড় দিতে পারিবে জানো কি? গাড়ী সাত বগুসর দিনরাত্রি না চলিলে ধ্যকে ঘুরিয়া আসিতে পারিবে না। অর্থাৎ আমাদের সাত বশসরের খাবারের মত চাল দাল তেল ন্রন এবং গাদা গাদা কাপড়-জামা সঙ্গে লইয়া তবে সুধ্যকে ঘুরিতে বাহির হইতে হইবে। পৃথিবীকে ঘুরিতে একুশ দিন লাগে এবং সূষ্যকে ঘুরিতে সাত বসর লাগে। এখন ভাবিয়া দ্রেখ, পৃথিবীর চেয়ে সূষ্য কত বড়। আর একট! উদাহরণ দিই | মনে কর, একদিন বিশ্ব- কম্মাকে বিধাতা হুকুম দিলেন,_-আমাদের সুধ্যের মত আর একটা! নৃতন সুষ্য তৈয়ার কর।” বিধাতার হুকুম অমান্য করার উপায় নাই। পৃথিবীর মত যে-সব বড় বড় জিনিস আকাশে আছে, সেগুলিকে টানিয় আনিয়া বিশ্বকন্মী কাদা করিতে লাগিলেন এবং তাহা দিয়া নৃতন সুধ্য গড়া হইতে লাগিল। পৃথিবীর মত কতগুলা গ্রহ দিয়া নৃতন সূয্য গড়া যাইবে, তাহা বোধ হয় তোমরা জানো না। আমরা ইহার একটা হিসাব করিয়া দেখিয়াছি পুথিবীর মত সাড়ে-তের লক্ষ বড় জিনিস কাদা না করিলে বিশ্বকধ্মা কখনই একটা নূতন সুষ্য গড়িতে পারিবেন না। তাহা হইলে বুঝা যাইতেছে, একা সুষ্য সাড়ে-তের লক্ষ পৃথিবীর সমান। অর্থাৎ সূর্যকে যদি একটা

সুধ্য

কাটালের মত মনে করা যায়, তবে তাহার তুলনায় পৃথিবা হইয়া দাড়ায় একটা সরিষার সমান। |

সূর্য্য পৃথিবী হইতে কত দুরে আছে, এখন তোমাদিগকে সেই কথা! বলিব। এত প্রকাণ্ড জিনিসকে আমরা যখন একখানি ছোট রেকাবের মত দেখি, তখন বুঝা যায়, সুরধ্য পৃথিবী হইতে নিতান্ত কম দূরে নাই। অনেক বড় বড় পণ্ডিত অনেক পরিশ্রমে এই দুরত্বের একটা হিসাব করিয়া- 'ছেন। তাহারা বলেন, পৃথিবী হইতে সুধ্য প্রায় নয় কোটি ত্রিশ লক্ষ মাইল দুরে আছে। পৃথিবীতে আমরা দু-মাইল দ্রশ-মাইল বা দু-হাজার দশ-হাজার মাইল লইয়া! হিসাবপত্র করি। তাই সুয্যের দুরত্বটা যে কত, তাহা আমরা মনেই করিতে পারি না।

একটা উদাহরণ দেওয়া,যাউক। আগেকার মত মনে কর, আমাদের পৃথিবী হইতে সুধ্য পধ্যন্ত যেন একটা! রেলের রাস্তা আছে এবং আমর! সেই রেল-লাইনের একখানা গাড়ীতে চাপিয়! সুধ্যলোকে যাইবার জন্য যেন বাহির হইয়া পড়িলাম। গাড়ী ঘণ্টায় ত্রিশ মাইল বেগে চলিতে আরম্ভ করিল। এই-রকমে কত দিনে আমরা সুয্যে পৌছিতে পারিব, তোমরা আন্দাজ করিতে পার কি? হিসাব করিলে দেখিবে, গাড়ী- খানি তিন শত পঞ্চাশ বতসর ধরিয়া দিনরাত না চলিলে কখনই সূর্ধ্যে পৌছিতে পারিবে না। কি ভয়ানক দুরত্ব!

গধ্যের তাপ আলো

৩্ক্ুবা কত বড় এবং পৃথিবা হইতে কত দুরে আছে, নব কথা তোমরা আগে শুনিয়াছ। কিন্তু দুরে থাকিয়াও তাহার কি ভয়ানক তাপ আলো! বৈশাখ-জ্োষ্ঠ মাসে সূর্যের, তাপের ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করিয়া বসিয়া থাকিতে হয় এবং আলোতে চোখ জ্বালা করে, অণচ সুধ্যের সমস্ত তাপ আলোর অতি সামান্য ংশই পৃথিবীর উপরে পড়ে। মনে কর, তোমাদের ঘরের টেবিলের উপরে একট ল্যাম্প ভ্বলিতেছে এবং অনেক দুরে ঘরের কোণে একটা ছোট মাবেল পড়িয়া আছে। ঘরের টেবিল চেরার ছবি প্রভৃতি সব জিনিসেই ল্যাম্পের আলো! পড়িল এবং সঙ্গে সঙ্গে মাবেলের উপরেও একটু আলো আমিল। ল্যাম্পের সমস্ত আলোর তুলনায় মাবেলের উপরকার আালোটুকু কত অল্প তাহা মনে করিয়া দেখ। সুধোর সমস্ত তাপ আলোর তুলনায় পৃথিবী যে তাপ- আলো পায়, তাহা ইহা! অপেক্ষাও অনেক অল্প। আবার আমাদের আকাশের বাতাস জলীয় বাষ্পের ভিতর দিয়া আিবার সময়ে ইহার আনেকটা নষ্ট হইয়! যায়। সূর্য্ের তাপ আলোকের কোটি-কোটি ভাগের এক ভাগের প্রতাপ যদি এত হয়, তবে সুয্যে কত তাপ কত আলো আছে একবার ভাবিয়া দেখ। সার জন্‌ হার্সেল নামে একজন বড়

2/

সূর্যের তাপ আলো

জ্যোতিষী কিছুদিন আফ্রিকায় বাস করিয়াছিলেন সেখানে ডিম মাংস ভাজিবার জন্য তাহাকে প্রায়ই উনন ভ্বালিতে হইত না। কাচের বাক্সে ভরিয়া তিনি সেগুলিকে কয়েক ঘণী। মাত্র রৌদ্রে ফেলিয়া রাখিতেন। সূধ্যের তাপেই ডিম মাংস সিদ্ধ হইয়া যাইত। ছোট আতসী কাচের উপরে কতট্ুকুই-বা সুর্যের তাপ পড়ে। কিন্তু সেই তাপটুকুই যখন কাচের ভিতর দিয়া একত্র হয়, তখন তাহ! দিয়া কাগজ, স্ঠকৃনো পাতা, এমন কি কাঠ পর্যন্ত ভালানো যায়। তোমরা ইহা দেখ নাই কি? ছেলেবেলায় আমার একখানা আতমসী কাচ ছিল। তাই দিয়! শুকৃনে। পাতায় প্রায়ই আগুন ধরাইতাম। ঘরে দুয়ারে আগুন লাগিবার ভয়ে গুরুজনেরা খুব তাড়া দিতেন আজও সে-সব কথা মনে আছে।

যাহা হউক সুধ্য কত তাপ দেয় তার একটা হিসাবের কথা বলি। দুই হাত লম্বা! এবং দুই হাত চওড়া! জায়গাটি যে কত ছোট তাহ! তোমরা মাপিয়া দেখিয়ো,_ এতটুকু জায়গায় হয় দু'জন লোকও ভালে করিয়া বসিয়া থাকিতে পারে না। সুর্যের উপরকার এই-রকম একটু ছোট জায়গা হইতে এক ঘণ্টায় যে তাপ বাহির হয়, পৃথিবীতে ছুই শত , মণ কয়ল] পুড়াইলেও তাহা পাওয়া যায় না। এখন ভাবিয়া দেখ, সুয্যকে এক ঘণ্টার জন্য ভ্বালাইয়া রাখিতে গেলে কত কোটি-কোটি মণ কয়লারই দরকার হয়। একজন বৈজ্ঞানিক হিসাব করিয়া বলিয়াছিলেন, যদি সমস্ত সূর্যাটা কেবল কয়লা

১০ বিজ্ঞানের গল্প

দিয়াই প্রস্তুত হইত, তবে সেই কয়লার আগুনে আমরা এক হাজার বৎসর মাত্র তাপ পাইতাম। তার পর সমস্ত কয়ল! পড়িয়া যাইত এবং সূর্য্য নিভিয়া এক প্রকাণ্ড ছাইয়ের গাদা হইয়া দাড়াইত। কিন্তু সূরধ্য লক্ষ-লক্ষ বুসর ধরিয়া তাপ ছড়াইয়৷ আজো নিভে নাই। আশ্চর্য্য নয় কি?

তোমরা কি মনে কর জানি না, কিন্তু আমি যখনি সূধ্যকে দেখি, তখনি মনে করি সেখানে ধূধ করিয়া আগুন ভলিতেছে। সত্যই তাই, সুধ্যের আগাগোড়া প্রায় সকলি আগুন। বৈজ্ঞানিকেরা বলেন, সুর্যের দেহ চলন্ত বাষ্প দিয়! গড়া সেখানে তোমার আমার মত প্রাণী গেলে এক সেকেঞ্ডে পুড়িয়! ছাই হইয়া যাঁয়। কিন্তু তাই বলিয়া মনে করিয়ো না, সূষধ্য বাতাসের মত হাল্কা বাপ্প দিয়া গড়া। মনে কর, তোমরা যেন একট! ফুটবলের ব্রাডারের ভিতরে অনেক বাম্প পম্প করিয়া রাখিলে। এই-রকমে চাপ পাইলে বাতাম যেমন গাঢ হয়, বা আরো বেশি চাপে অন্ত বাচ্প যেমন জমাট বাঁধিয়া যায়, সুধ্যের বাম্পের অবস্থা সেই- রকমের এই-রকম গাঢ বা কতকটা জমাট ভুলন্ত বাষ্প একত্র হইয় সূষ্যকে একটা প্রকাণ্ড আগুনের স্তপ করিয়া তুলিয়াছে। সূর্য্যে জল, মাটি, পাহাড়, পর্বব্ত, লোহা, তামা,কোনে জিনিসকেই ঠিক অবস্থায় দেখা যায় না। সবই জুলিয়া পড়িয়া! বাষ্প হইয়া আছে।

আগাদের পৃথিবী কেবল ধুলা মাটি পাথর জল দিয়াই

সুধ্যের তাপ আলো ১১

গড়া নয়। পৃথিবীর উপরে পঁচিশ ক্রোশ পর্য্যন্ত বাতাস আছে এবং তাহাতে কত জলীয় বাষ্প কত মেঘ ভাসিয়া বেড়ায়। পৃথিবী এই বাতা মেব বাচ্পকে কাছ-ছাড়া হইতে দেয় না। তোমরা যেমন শীতকালের দ্রিন লেপ গায়ে জড়াইয়া রাখ, পৃথিবীও সেই-রকমে বাতাস দিয়া গা ঢাকিয়া রাখে ইহাকে সে কখনই কাছ-ছাড়! হইতে দেয় না জোরে টানিয়া গায়ে আট্কাইয়। রাখে। স্মতরাং আমাদের বাযুমণ্ডলও পৃথিবীর জিনিস। যাহা হউক পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মত সুধ্যেরও এক বাম্পমগ্ডল আছে কিন্তু তাহা অতি ভয়ানক জিনিস। আমাদের বাযুমণ্ডল কুড়ি-পঁচিশ মাইল গভীর,_সূষ্্যের বাস্প-মগ্ডল লক্ষ লক্ষ মাইল গভীর হইয়া তাহাকে ঘিরিয়া দিবারাত্রি ভুলিতেছে। সুধোর সব আলো তাপ বাপ্পমণ্ডল হইতেই বাহির হয়। পৃথিবীর বায়ুমগুলে কত ঝড়, কত বৃষ্টি হয়, তোমরা নিশ্চয়ই তাহা দেখিয়াছ। বড় বড় নৌকা গ্রীমার এই সব ঝড়ে ডুবিয়া যায়, কত ঘরবাড়ী গাছপাল! পড়িয়া যায় সুধ্যের বাপ্পমণ্ডলেও এই-রকম ঝড় হয়,_কিন্তু সে ঝড় কি প্রকাণ্ড! প্রতি সেকে্ডে হাজার হাজার মাইল বেগে মেই জ্বলন্ত বাষ্প জোরে সৃয্যের আকাশের উপরে উঠে, তার পরে সেখানে ঠাণ্ড! হইয়া তাহাই আবার হুড়মুড়, করিয়। নীচে নামে। আমাদের পৃথিবীতে হয় বসরে ছুই তিনবার ঝড় হয়। কিন্তু সুধ্যের আকাশে ঝড় লাগিয়াই

ডি বিজ্ঞানের গল্প

আছে। লক্ষ-লক্ষ মাইল জুঁড়িয়া এই ঝড় কুড়ি পঁচিশ দিন এমন কি এক মাস পর্য্যন্ত চলে। তখন ঝড়ের চোটে সুর্যের উপরকার জ্বলন্ত বাষ্প সরিয়। যায় এবং সেইসব জায়গায় এক-একটা প্রকাণ্ড গর্ত হয়। তোমরা হয় ভাবিতেছ, গন্তগুলি বুঝি দশ হাত বা বিশ হাত চওড়া। কিন্তু তাহা! নয়। সূর্যের উপরকার ঝড়ের গর্তে আমাদের পৃথিবীর মত বড জিনিস হাজার দু-হাজার অনায়াসে লুকাইয়

মুধ্যের একটা! খুব বড় কলঙ্ক। থাকিতে পারে। তোমরা চাদের গায়ে যেরকম কালো- কালে৷ কলঙ্ক দেখিতে পাও, ঘুণি-ঝড়ের সময়ে সূর্য্যের গায়েও

সূধ্যের তাপ আলো ১৩

এ-রকম কালো দাগ দেখা যায়। দুরবীণ দিয়া সু্যকে দেখিলে প্রায় সকল সময়েই তোমরা এ-রকম দাগ দেখিতে পাইবে। প্রায় পনেরো-ষোল বৎসর আগে আমরা সুর্যের গায়ে খালি-চোখেই একটা প্রকাণ্ড বড় কলঙ্ক দেখিয়াছিলাম। সেই গর্তটা এত বড় ছিল যে, তাহার ভিতরে দুই হাজার পৃথিবী লুকাইয়া থাকিতে পারিত। এখানে সুষ্যের কতক অংশের ছবি দিলাম ইহাতে অনেকগুলি কলঙ্কের দাগ দেখিতে পাইবে। দুরবীণে সূর্যের কলঙ্ক ঠিক এই- রকমই দেখা যায়। ঝড়ের সময়ে সুয্যের ভ্রলন্ত বাম্পমগ্ডল হইতে যে আগুনের শিখা উঠে, তাহারো 2২4. ছবি দেওয়া গেল। এ- সরে গুলি সূর্ধাকে ছাড়িয়া হুয্যের কলঙ্ক। তান বেগে লক্ষ- লক্ষ মাইল উপরে উঠে এবং একটু পরে ভয়ানক বেগে নীচে নামিয়া আসে। কিন্তু সূর্য্যের এই আগুনের শিখ! দেখা বড় মুক্িল। সূর্যের আলোতে এগুলি ঢাকা থাকে, তাই দেখা যায় না! পুর্ণ-গ্রহণের সময়ে যখন সুধ্যের আসল দেহটা টাকা পড়িয়া! যায়, কেবল তখনি তাহার বাষ্পমগুলের

মা

১৪ বিজ্ঞানের গল্প

সব ব্যাপার নজরে পড়ে জ্যোতিষীর! সেই-সময়ে সূর্যে ফৌটোগ্রাফ লইয়া থাকেন। সুধ্যের শিখার যে ছবি

পূর্ণ গ্রহণের সময় হৃরধোর শিখ

দিলাম তাহা এঁ-রকম একটা ফোটোগ্রাফ, দেখিয়াই আঁকা হইয়াছে

লক্ষ-লক্ষ বৎসর ধরিয়া সৃধ্যে যে তয়ানক আগুন জুলিতেছে, তাহা! কি-রকমে উৎপন্ন হয়ঃ তোমরা ভাবিয়া

সূ্যের তাপ আলো ১৫

দেখিয়াছ কি? প্রদীপের তেল ফুরাইলে প্রদীপ নিৰিয়া যায়, তখন ঘর অন্ধকার হইয়া! পড়ে। উননের কয়লা পুড়িযা ছাই হইয়! গেলে, তাহাতে আর একটুও আগুন থাকে না। সূর্যে যখন এতদিন ধরিয়া আগুন জ্বলিতেছে, তখন বুঝিতেই হইবে নিশ্টয়ই তাহাতে কোনো! রকম কয়লা তেল বা আর কিছু আদিয়া পড়িতেছে। পঞণ্ডিতেরা অনেক অনুসন্ধান করিয়াছেন, কিন্তু কাহাকেও সূয্যে তেল বা কয়লা ঢালিতে দেখেন নাই।

এত তাপ খরচ করিয়াও সূধ্য, যে-রকমে নিজের শরীরটাকে গরম রাখে তাহা বড়ই মজার। বাতাসের মত কোনো বাষ্পীয় জিনিসকে তোমরা ছোট জায়গায় পৃরিয়া চাপ দ্রিয়। দেখিয়াছ কি? বোধ হয় দেখ নাই। ফুটুবলের ব্লাডারের মধ্যে যখন খুব তাড়াতাড়ি অনেক বাতা পোরা যায়, তখন ব্লাডারের উপর হাত দিয়া দেখিয়ো,__-দেখিবে, ব্লাডার গরম হইয়া উঠিয়াছে। বাইমিকেল গাড়ীর চাকার গায়ে যে রবারের থলির মত গদি লাগানো থাকে তাহা তোমরা হয় দেখিয়াছ। ইহার ভিতরে যখন জোরে বাতাস পম্প্‌ করা যায়, তখন থলির ভিতরের বাতাস গরম হইয়া উঠে। যে- বাতাস বাহিরে অনেকট। জায়গা জুড়িয়া ছিল, একটুখানি জায়গার মধ্যে চাপাচাপি .রাখা হুইল বলিয়াই তাহা গরম হয়। তাহা হইলে বুঝা যাইতেছে, বাতাসকে সম্কুচিত করিলেই তাহা গরম হইয়া পড়ে। কেবল বাতাস নয়,__

১৬ বিজ্ঞানের গল্প

বাষ্পমান্রকেই এই-রকমে"্গরম করা যায়। ইহার জন্য কাঠ কয়লা বা তেল পোঁড়াইবার দরকারই হয় না পণ্ডিতেরা বলেন, সুধ্যের দেহে যে বাম্প আছে, তাহা তাপ ছাড়িয়া সঙ্কুচিত হইতেছে। কাজেই ইহাতে সূর্য্যে আপনা হইতেই নৃতন তাপের স্থগ্টি হইতেছে। এইজন্যই সূর্য্য প্রতিদিন এত তাপ ছাড়িয়াও ঠা হইতেছে না।

তোমরা হয় এখন ভাবিতেছ,-প্রতিদিনই যখন সূর্যের দেহ সম্কুচিত হইতেছে, তখন দ্িনে-দিনে তাহাকে আকারে ছোট দেখ যায় না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আছে। জ্যোতিষীর বলেন, সুধ্য এত অল্পঅল্প করিয়া ছোট হইতেছে যে, দু'হাজার চারি হাজার বতসর পরীক্ষা করিলেও এই ছোট হওয়া কাহারে নজরে পড়িবে না; লক্ষ লক্ষ বতসর পরে যে-সব লোক পৃথিবীতে জন্মিবে তাহারাই হয় সুধ্যকে এখনকার চেয়ে ছোট দেখিবে।

সূর্য ছোট হইলে ভয় নাই, কিন্তু ক্রমে ঠাণ্ডা হইয়া ইহা যখন নিবিয়া যাইবে, সেই অবস্থাটার কথ। মনে করিলে তয় হয়। জ্যোতিষীরা বলেন, সত্যই সুয্যের সেই অবস্থা একদিন আমিবে। তখন তাহার এত তাপ, এত আলো দেখা যাইবে না। পৃথিবীর মাটি পাথর যেমন আলোহীন তাপহীন, তখন সূর্যের দেহ. ঠিক সেই-রকমই হইয়া ঈাড়াইবে। ভাবিয়া দেখ সেই-সময়ে এই জগতের দশা কি হইবে,-তাঁপ না পাইয়। বৃষ্টি হইবে না, গাছপালা সকলি

সূ্যের আলো তাপ

মরিয়! যাইবে-এমন কি জল ও* বাতাসও ঠাণায় জমাট বাঁধিয়া ষাইবে, মানুষ গোরু ঘোড়া ছাগল প্রভৃতির চিহনও এই পুথিবীতে থাকিবে না। এই পৃথিবীখানা তখন একটা! মহাশ্মশানের মত ধূধু করিতে থাকিবে। ইহাই মহাপ্রলয়! তোমরা বোধ হয় ভয় পাইতেছ, কিন্তু ভয়ের একটুও কারণ নাই, এই সর্ববনাশ দেখিবার জন্য তুমি বাঁ আমি কেহই তখন বাঁচিয়া থাকিব না। কত লক্ষ-লক্ষ বগুসর পরে যে এই মহাগ্রলয় হইবে, তাহার আজও হিসাবই হয় নাই।

ূর্ধা কত তাপ দেয় তাহা তোমরা শুনিয়াছ। এখন ইহা হইতে কত আলো পাওয়! ষায় তাহার কথা বলিয়াই আমরা সূর্যোর কথা শেষ করিব। ম্যাজিক লন বা বায়স্কোপে যে আলো জল! হয়, তাহা! তোমরা হয় দেখিয়ান্ঘ। সব আলোর চেয়ে ইহারি জোর বেশি। তোমরা হয় ভাবিতেছ, এই আলো বুঝি সুধ্যের আলোর সমান। কিন্তু তা” নয়। সার জন হার্সেল নামে একজন বড় জ্যোতিষী হিসাব করিয়া দেখিয়াছিলেন, বায়স্কোপের আলো সুধ্যের মালোর দেড় শত ভাগের এক ভাগের সমান। আর একটা হিসাবের কথা৷ বলিব। পুণিমার রাত্রিতে চাদ হইতে কত আলো পাওয়া যায়, তাহা তোমরা দেখিয়াছ। তখন জ্যোৎ্স্থার আলোতেই বই পড়া যায়। কিন্ত হিসাব করিয়া

দেখা গিয়াছে, ছয় লক্ষ পুণিমার চাদ এক সঙ্গে আলো না

১৮ বিজ্ঞানের গল্প

দিলে, সূর্যের আলোর মত আলো পাওয়! যায় না। অর্থাৎ সমস্ত আকাশটাকে যদি চাদে টাদে ছাইয়া ফেলা যায়, তবেই সুধ্যের মত আলো হয়। সূর্য হইতে আমরা কত আলো পাই, তাহা একবার ভাবিয়া দেখ।

আলোর উৎপত্তি

ুলম্ধ্যা হইয়াছে। ঘর-দুয়ার সবই অন্ধকার; কিছুই দেখা যায় না। এমন সময়ে ঘরে আলো! ভ্বালা হইল, আর সব জিনিমই তোমাদের নজরে পড়িল। রাত্রিতে কি ভয়ানক অন্ধকারই হয়। আকাশের এক কোণে কত কোটি কোটি মাইল দুরে যেই সূর্ধা দেখা দিল, অমনি অন্ধকার কাটিয়া গেল। তোমরা তখন ঘরের এবং বাইরের সব জিনিস সম্প্ট দেখিতে লাগিলে।

ইহা কেন হয়? আলো জিনিসটাই বা কি,--তোমর! সকলে রোধ হয় তাহা জানো না। আমর! সেই-সব কথা তোমাদিগকে বলিব।

প্রদীপ জ্বালিলে তাহার আগুন হইতেই যে, আলে। আসিয়। তোমার চোখে মুখে এবং বইয়ের পাতায় পড়ে, তাহা বেশ বুঝা যায়। তোমার বইখানিকে আড়াল দিয়া গ্রদীপ ঢাকিয়। রাখ,_দেখিবে বইখানায় আলো আট্কাইয়া যাইতেছে,_বইয়ের পিছনটা তখন অন্ধকার। তেমনি ছাত। দিয়া সৃত্যের আলো আট্কাইয়! ফেল,__দেখিবে ছাতার নীচে রৌদ্র আসিতেছে না।

কোনো জিনিমকে এক জায়গা হইতে আর এক জায়গায় আনিতে হইলে, তাহাকে বহিয়া আনিতে হয়। নদীর

২০ বিজ্ঞানের গল্প

আ্রোতের জলে যখন পাতা বা ফুল ভাঙিয়া চলে, তখন বুঝা যায়, নদীর জলই সেগুলিকে ঠেলিয়া লইয়া যাইতেছে। ঝড়ের সময়ে যখন পথের ধুলা-বালি উড়িয়া তোমার ঘরের তিতরে আসিয়া! পড়ে, তখন বুঝা যায় বাতীসই ধুলাকে উড়াইয়া ঘরে আনিতেছে। কামানের গোল যখন ভয়ানক বেগে ছুটিয়া দশ-পনেরো ক্রোশ দূরের ঘর-বাঁড়ী ভাঙিতে আরম্ত করে, তখনো! বুঝা যায় কামানের ভিতরে ভয়ানক ধুক। পাইয়া গোল। ছুটিয়া চলিয়াছে। যখন আলো প্রদীপের আগুন হইতে ছুটিয়া আসিয়া ঘর-দুয়ার ছাইয়া ফেলে তখন কি তাহা এই-রকমেই চলে? তোমরা কি মনে করিতেছ জানি না, কিন্তু আলো কখনই বাতাসে ভর করিয়া বা কোনো জিনিসের ধাক্কা পাইয়া চলে না।

বৈজ্ঞানিকের! এ-সন্বন্ধে যাহা বলেন, তাহা বড় মজার | তাহারা বলেন, সব জিনিসই যে ধুলার মত উড়িয়া বেড়ার বা কামানের গোলার মত চলা-ফেরা করে, তাহা নয়। এগুলি ছাড়া অন্য-রকমেও দুরের একটা-কিছু কাছে আসিতে পারে। উদাহরণ দিলে তোমরা ইহা বুঝিতে পারিবে মনে কর, তোমাদের বাড়ীর ছাদ তৈয়ারীর জন্য একটা লম্বা লোহ। বা কাঠের কড়ি আডিনায় পড়িয়া আছে এবং একজন মিস্ত্রী যেন বড় হাতুড়িটা দিয়া তাহার এক প্রান্তে ঢউ-টউ করিয়া ঘা দিতে আরম্ত করিয়াছে এবং তুমি যেন কড়ির অন্য প্রান্তে হাত লাগাইয়া বসিয়া আছ। হাতুড়ির আঘাতে

আলোর উৎপত্তি ২১

কড়ি কাপিয়া উঠিল এবং তার পর সেই কীপুনি কড়ির ভিতর দিয়া চলিয়া তোমার হাতে পৌছিল--তোমার হাতখান! ঝিন্ঝিন্‌ করিয়। উঠিল। এই-রকমে কীপুনির চলা-ফেরা তোমরা কি কখনই দেখ নাই? ঝড়ের সময়ে বাতাসের ধাক্কায় যেমন ধূলা-বালি উড়িয়া ঘরে আসিয়া পড়ে, কীপুনি কি সেই-রকমেই আসিল? কখনই না। আবার মনে কর, তোমাদের পুকুরের ধারে দাড়াইয়! তুমি যেন জলে একটা ঢিল ছুড়িয়া ফেলিলে। জল স্থির ছিল। যেখানে ঢিল ফেলিলে এখন সেখানে ঢেউ উঠিল।* প্রথম ঢেউগুলি গাড়ীর চাকার মত ছোট হইয়া দেখা দিল। তার পরে তাহাই পরে পরে বড় হইয়া সমস্ত পুকুরের জলকে ছাইয়া ফেলিল এবং শেষে তোমাদের বাধা ঘাটে আসিয়া ধাক্কা দিল। এখানে টিলের ধাক্কা পাইয়া জলই কি দুর হইতে ছুটিয়া আসিয়া ঘাটের সিঁড়িতে ঠেকিল? কখনই না। স্থির জলে টিল ফেলিলে যে ঢেউ হয়, তাহা জলকে টানিয়া দুরে আনে না যেখানকার জল সেখানেই থাকিয়া কেবল উচু-নীচু হইয়া নাচিতে থাকে, তাহাতেই ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ঢেউয়ের উপরে যে ফুল বা পাতা ভাসিতে থাকে, তাহা , কখনই ঢেউয়ের সঙ্গে ভামিয়া দুরে যায় না,_-সেগুলি জলের উঠা-নামার সঙ্গে একই জায়গায় দাঁড়াইয়া তালে তালে নাচিতে থাকে মাত্র। মনে কর, তোমরা রেলগাড়িতে উঠিবার জন্য টিকিট কিনিয়া ষ্টেশনে দীড়াইয়া আছ,__

২২ বিজ্ঞানের গল্প

একখানা মালগাড়ী হুস্-ুস্‌ করিয়! সম্মুখ দিয়া চলিয়া গেল। মালগাঁড়ির চাকার দাপটে তখন তোমাদের পায়ের তলার মাটি কি-রকমে কীপিয়া উঠে দেখ নাই কি? তখন বোধ হয় যেন ভূমিকম্প হইতেছে মালগাড়ীর চাকার তলার মাটি ছুটিয়া আসিয়া তোমার পায়ের তলায় ধাক্কা দেয় কি? কখনই না। চাকার জোরে তাহার নীচেকার মাটিই কেবল ধাকক। পায়। তার পরে সেই মাটি তার পাশের মাটিকে ধাক| দিয়া নিজে স্থির হয়। এই-রকমে জলের ঢেউয়ের মত সেই ধাক্কার ঢেউ মাটির তলা দিয়! চলে। তাহাই যখন তোমার পায়ের তলার মাটিতে আসিয়া পৌছে, তখনি তোমার পা কাপিয়। উঠে।

যে-সব কথা বলিলাম, তাহা যদি ঠিক বুঝিয়া থাক, তাহা হইলে তোমরাও নিশ্চয় বলিবে, ঝড়ের ধুলা বা বন্দুকের গুলি যেমন এক জায়গা হইতে আর এক জায়গায় ছুটিয়া চলে, জলের ঢেউ বা লোহা, মাটি কাঠ-পাথর প্রভৃতির কীপুনি সে-রকমে চলে না। সূর্য্য বা প্রদীপ হইতে আলো আসিয়া যখন তোমার চোখে মুখে পড়ে, তখন তাহা এরকম কীপুনির আকারেই আসে

তোমরা! হয় ভাবিতেছ,--এ আবার কি-রকম ঢেউ ? জলে বা বাতাসে যেমন ঢেউ উঠিতে পাঁরে, মাটি পাথর কাঠ যখন থাকা পাইয়া কাপে তখন তাহারো ভিতর দিয়া তেমনি ঢেউ চলিতে পারে। পৃথিবী সূর্যের মধ্যে জল নাই,

আলোর উৎপত্তি ২৩

বাতাসও সব জায়গায় নাই,--তবে কাহাকে কাপাইয়। আলোর ঢেউ সূর্য্য হইতে পৃথিবীতে আসিয়া পড়ে? | ইহার উত্তরে বৈজ্ঞানিকেরা একটা বড় আশ্চর্য কথা কথা বলেন। তীহারা বলেন, এই চন্দ্র-সূর্ধ্য পৃথিবী নক্ষত্র লইয়া যে অনন্ত আকাশ আমাদের চারিদিকে রহিয়াছে, তাহা শুন্য নয়; “ঈথর” নামে একরকম অতি-সুন্মম পদার্থ অনন্ত জায়গাটি জুড়িয়া রহিয়াছে তোমরা হয় ইহাকে বাতা বা বাতাসের মত কোনো! একটা জিনিস মনে করিতেছ। কিন্তু তাহা নয়। বাত পৃথিবীর উপরে কয়েক ক্রোশ মাত্র আছে। যেখানে চাদ, সূর্য এবং গ্রহ- নক্ষত্রের আছে, সেখানে বাতাস নাই,_কেবল ঈথরই আছে। বাতাসকে যেমন চোখে দেখা যায় না, ঈথরকেও কেহ দেখিতে পায় না এবং তাহা বাতাসের মত জোরে ছুটিয়া আসিয়া কখনই গায়ে ধাক্কা দেয় না। বাতাস সব জিনিসের মধ্যে প্রবেশ করিতে পারে না, কিন্তু ঈথর জিনিসটা ইট্‌, কাঠ, মাটি, পাথর এমন কি লোহা, তাম! ইত্যাদি কঠিন দ্রব্যের ভিতরে থাকিতে পারে জিনিস যতই শক্ত হউক, তাহার অণুগুলির মধ্যে বেশ একটু ফাক থাকে। এই-নব ফাঁক দিয়া বাতাস ধাওয়াআসা করিতে পারে না, কিন্তু ঈথর সেই-সব ফাক সর্ববদ| পুর্ণ করিয়া বসিয়া থাকে ঈখর কি-রকম জিনিস এখন বোধ হয় তোমরা বুঝিতে পারিলে। তোমরা হয় ভাবিতেছ, যাহাকে চোখে দেখা যায় না

২৪ বিজ্ঞানের গল্প

ছু'ইয়। বুঝ! বায় না, এমন একটা অদ্ভুত জিনিসকে মানিয়া লওয়া শক্ত নিশ্চয়ই শক্ত-_কিন্তু বড় বড় পঞ্ডিতেরা এ- সম্বন্ধে যে-সব প্রমাণ দেখাইয়াছেন তোমরা যখন সেগুলি বুঝিবে, তখন আকাশ পাতাল সব জায়গাতেই যে ঈথর আছে, ইহা তোমরাও স্বীকার করিবে।

যাহা হউক বৈজ্ঞনিকেরা বলেন,যে ঈথর নামে জিনিসটি সমস্ত ব্রন্মাণ্ড জুড়িয়া আছে, আলো তাহারি ঢেউ। সূধ্যে কি ভয়ানক অগ্নিকাণ্ড চলিতেছে, তাহা! তোমরা জানো কত-রকম বাস্প দিবারাত্রি ভবলিরা-পুড়িয়া এবং পরস্পরকে ধাক্কা দিয়া কি কাণ্ড করিতেছে, তাহা আগেই বলিয়াছি। প্রদীপের শিখা দেখিতে ছোট কিন্তু সেখানেও কম ব্যাপার হয় না। তাপ পাইলেই প্রদীপের তেল বাম্প হইয়া দাড়ায়। তার পরে তাহারি কতক অংশ ভাডিয়া-চুরিয়া বাতাসের সঙ্গে মিশিয়া নূতন তাপের স্থষ্টি করে। তখন শিখার ভিতরকার সকলেরি অণু-পরমাণু থর্থর্‌ করিয়া কাপিতে আরম্ত করে। আগুনের একটুখানি শিখার ভিতরে এত কাণ্ডই চলে !

কেবল সূর্য্য এবং প্রদীপের শিখাতেই যে এই-রকমটি হয়, তাহা নয়। যেখানে আগুন এবং যেখানে তাপ_ সেখানে অণু-পরমাণুর এই-রকম ভাঙা-গড়া ধাকাধুকি এবং এবং কীপুনি চলে। তোমরা যখন পুকুরের স্থির জলে টিল ফেলিয়া জল কীপাও তখন সেই কীপুনিতে জলে ঢেউ হয়

আলোর উৎপত্তি ২৫

এবং তাহা জলের উপর দিয়! দুরে ছড়াইয়া পড়ে। হাতুড়ির ঘা মারিয়! মিস্ত্রীরা যখন লোহার.কড়িকে কীপায়, তখন লোহার ভিতর দিয়া সেই কীপুনি ঢেউয়ের মত চলে। তাই তোমরা লোহার এক প্রান্তে হাত রাখিয়া সেই কীপুনি বুঝিতে পার। আগুনের বাষ্পের অণুপরমাণু যখন কীপে, তখন তাহাতেও চারিপাশের ঈথর কীপিয়া উঠিয়া যে ঢেউয়ের স্থষ্টি করিবে তাহাতে আর আশ্চর্ধ্য কি? বৈজ্ঞানিকেরা বলেন, সতাই এই-রকমে আগুনের কাছের ঈথরে ঢেউয়ের সি হয়। তার পরে পুকুরের জলের ঢেউ যেমন জলের উপর দিয়া ছুটিয়া চারিদিকে ছড়াইয়া পড়ে প্রদীপের কাছের ঈথরের ঢেউও ঠিক সেই-রকমে ছুটিতে আরম্ত করে। তার পরে সেগুলি যখন আমাদের চোখে আসিয়া ধাক্কা দেয়, তখনি আমরা আলো দেখি

জলের উপরকার ঢেউ কত শীঘ্র চারিদিকে ছড়াইয়া পড়ে, তাহা তোমরা দ্রেখিয়াছ। ঈথরের ঢেউ কত শীঘ্র চলে, বৈজ্ঞানিকের! তাহার হিসাব করিয়াছেন। তাহারা বলেন, প্রতি সেকেণ্ডে উহা এক লক্ষ বিরানববই হাজার মাইল বেগে ছুটিয়া চলে। অর্থাু যদি এক লক্ষ বিরান্ববই হাজার মাইল দুরে একটা প্রকাণ্ড আগুন জ্বলে, তবে তাহার আলো তোমার চোখে পৌছিতে এক সেকেণ্ডের বেশি সময় লইবে না। রেলগাড়ী খুব জোরে চলিলে ঘণ্টায় পঞ্চাশ ষাট মাইলের বেশি যায় না গাড়ীতে চড়িয়া আমরা ইহার

(৪

বিজ্ঞানের গল্প

একটা আন্দাজ করিতে পারি। কিন্তু আলো যে বেগে চলে, তাহার আন্দাজই হয় না। সূর্য্য হইতে পৃথিবী কত দুরে আছে, তাহা! তোমরা আগে শুনিয়াছ। রেলগাড়ী করিয়া তোমরা যদি আজ সূর্ধ্য দেখিতে যাত্রা কর, তাহা হইলে দিনরাত চলিয়াও গাড়ী সাড়ে তিন শত বৎসরের আগে কখনই সূর্য্যে পৌছিবে না। কিন্তু এত দুরের সূর্ধ্য হইতে আলো! পৃথিবীতে পৌছিতে সাড়ে সাত মিনিটের বেশি সময় লয় না। ভাবিয়া দেখ, আলো কত শীঘ্র চলে। এক সেকেগড কত অল্প স্ময়, তাহা তোমরা জানো, সেই সময়ের মধ্যে তুমি হয় একটা কথাও উচ্চারণ করিতে পার না। কিন্ত এক সেকেণ্ড সময়ে আলো! তিন হাজার ছয় শত চল্লিশবার পৃথিবীকে ঘুরিয়া আসিতে পারে।

বৈজ্ঞানিকেরা বড় মজার লোক তোমরা যাহা চোখে দেখিয়৷ বা কানে শুনিয়৷ অবাক্‌ হইয়া বসিয়া থাক,__তাহারা সেগুলির কারণ খোজ করিতে লাগিয়া যান। বগুসরের পর ব্সর কত পরীক্ষা এবং কত হিসাবপত্র চলে। তার পরে সে-সন্বন্ধে ঠিক খবর পাওয়। যায়।. ঈথরের ঢেউ চোখে আসিয়! ধাক্কা দিলে আমরা আলো দেখিতে পাই, ইহা তোমাদিগকে বলিয়াছি। কিন্তু সেই ঢেউগুলি কত লম্বা তাহা বোঁধ হয় তামরা জানো না। বৈজ্ঞানিকেরা অনেক আলো পরীক্ষা করিয়া এবং অনেক অঙ্ক কষিয়া আলোর ঢেউ কত লম্বা তাহা স্থির করিয়াছেন।

আলোর উৎপত্তি ২৭

ঈথর চোখে দ্রেখা যায় না। সেগুলি যখন আমাদের চোখে আমিয়া ধাকা দেয়, তখন আমরা কেবল আলোই দেখি। সেই-সব ঢেউ কত লম্বা চোখে না দেখিয়া ঠিক্‌ করা অশ্চ্যা নয় কি? কিন্তু বৈজ্ানিকেরা তাহাও ঠিক্‌ করিয়াছেন। সে-সব কথা এখন তোমাদিগকে বলিব না এবং বলিলেও বুঝিবে না'। এখন কেবল ইহাই জানিয়া রাখ,--ঈথরের সে-সব ঢেউয়ের ধাক্কায় আমরা আলো দেখি তাহ! পদ্মা বা গঙ্গার ঢেউয়ের মত বড় নয়। আকারে সেগুলি নিতান্ত ছে৷ট। এক ইঞ্চি জায়গাটা কতটুকু তাহা তোমরা জানো। একট! পয়সাকে ঠিক্‌ মাঝামাঝি মাপিলে এক ইঞ্চি হয়। এই-রকম ছোট জায়গায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার ঈথরের ঢেউ সাজাইয়া রাখা যায়। ভাবিয়া দেখ সেগুলি কত ছোট। এত ছোট জিনিস কাগজে আঁকিয়া দেখানো যায় না বা চোখেও দেখা যায় না। কলের কামানের গোলা একটার-পর-একটা ছুটিয়া আসিয়া যুদ্ধের মাঠে পড়ে-_ঈথরের ঢেউগুলিও সেই-রকম ধারাবাহিক আপিয়া৷ আমাদের চোখে ধাকক। দেয়। এই-রকমে এক- সেকেণ্ডে কতগুলি ঢেউ আমাদের চোখে আসিয়া ঠেকে তাহা বোধ হয় তোমরা জানো না। হিসাব কন্িয়া দেখা গিয়াছে, সেকেণ্ডে বাটলক্ষ আশী হাজার কোটি ঢেউ চোখে আসিয়া ধাক! না দিলে আমরা আলো! দেখিতে পাই না।

শব্দের উৎপত্তি

ভু্গেমলে ঢ্্‌ ঢঙ করিয়া ছুটির ঘণ্টা! বাজিল। মাফ্টার মহাশয় আস্তে আস্তে খাপে চশমা রাখিয়া চেয়ার হইতে উঠিলেন এবং ছাতা হাতে করিয়! বাহির হইয়া গেলেন। তুমি বই গুছাইয়া লইলে এবং তোমাদের পাড়ার সেই-যে ছেলেটি দুরের বেঞে বদিয়াছিল, তাহাকে তুমি চীগকার করিয়া ডাকিলে। সে তোমার কাছে আমসিল। তার পরে দু'জনে গল্প করিতে করিতে তোমরা বাড়ীতে ফিরিলে। খুব মজা নয় কি?

ছুটির ঘণ্টার মত মিষ্টি আওয়াজ আর কারে নাই। তার পরে খন অন্য ছেলেদের সঙ্গে খেলার গল্প করা যায় সে-ও বেশ মিষ্টি লাগে। কিন্তু দারোয়ান্‌ স্কুলের গেটের কাছে যে ঘড়ি পিটাইল তাহাতে কি-রকমে শব্দ উৎপন্ন হইয়া তোমার কানে পৌছিল, তাহা বলিতে পার কি? তুমি গলার ভিতরকার বাত।সকে কি এক-রকম নাড়া-চাড়। করিলে এবং তোমার গল! হইতে “মা” বলিয়া একটা শব্দ বাহির হইল,--মা তাহা ও-ঘর হইতে শুনিয়া এ-ঘরে তোমার কাছে আমিলেন। এই ব্যাপারটাই বা কি-রকমে ঘটিল,-_ইহাও আশ্চধ্য নয় কি অনেক দূরে আকাশে বিদ্যুৎ চম্কাইল। সেখানে কি হইল জানি না,__কিন্তু একটু পরেই কামানের আওয়াজের মত শব্দ কানে পৌছিল,_-এটাও আশ্চধ্যের কথা নয় কি?

শর্ষের উৎপত্তি ২৯

কি-রকমে শব্দ উৎপন্ন হয় এবং তাহা কি-রকমে আমাদের কানে আসিয়া পৌছে, সেই কথাগুলিই তোমা- দিগকে বলিব। শব্দ কি-রকমে উৎপন্ন হয় বুঝিতে হইলে, জলের টেউ কি-রকমে হয় জানা দরকার। একট! উদাহরণ দেওয়া যাউক। মনে কর, জ্যেষ্ঠ মাসের গুমট দিনের বিকাল বেলায় তোমাদের পুকুরের জল স্থির হইয়া আছে, কোথাও একটু ঢেউ নাই। তুমি যেন সেই জলে একটা টিল ফেলিয়৷ দিলে। ইহাতে জলের অবস্থ। কি-রকম হয়, দেখ নাই দি? যেখানে টিল পড়ে সেখানকার জল চঞ্চল হইয়া উঠে। তার পরে সেই জায়গার চারিদিকে একটির পর একটি চাকার মত ঢেউ চলিতে আরন্ত করে এবং শেষে সেই ঢেউ তোমাদের বাঁধা ঘাটের সি'ড়িতে আসিয়া ধাকা দেয়।

তোমরা হয় মনে করিতেছ, যেখানে টিল ফেলা গেল সেইখানকারই জল ঢেউয়ের আকারে ধীরে ধীরে আসিয়া ঘাটের সিঁড়িতে ধাক্কা দের়। কিন্তু প্রকুত ব্যাপার তাহা নবু। যেখানে ঢিল পড়ে হঠাৎ ধাক্কা পাইয়া সেখানকার জল একটু উঁচু হইয়| ঈাড়ায়। ধুলা বা বালি গদা করিয়া রাখিলে, তাহা৷ যেমন বন্ুকাঁল উচু হইয়াই থাকে জল সে- রকমে উঁচু হইয়া থাকিতে পারে না। উঁচু হইয়াই তাহা তখনি জোরে নীচে নামিতে থাকে কোনো জিনিস জোরে নীচে নামিলে তাহা যাহার উপরে পড়ে তাহাকে ধাক্কা দেয়।

৩০ বিজ্ঞানের গল্প

কাজেই উচু জল নীচে নামিবার সময়ে তাহার নীচেকার জলে ধাক্ক। দেয় এবং ইহাতে পাশের জল নীচের দিক্‌ হইতে চাপ পাইয়া উচু হইয়া উঠে। এই-রকমে একটু দুরে আর একটা উচু ঢেউয়ের স্ষ্ি হয়। এক জায়গা হইতে আর এক জায়গায় যে-সব ঢেউ চলা-ফেরা করে সেগুলি এই- রকমেই চলে।

ইহা! হইতে তোমরা বোধ হয় বুঝিতে পারিরাছ, পুকুরের জলে টিল ফেলিলে যে ঢেউ হয়, তাহাতে এক জায়গার জল আর এক জায়গায় ঢেউয়ের সঙ্গে চলিয়া যায় না। এক জায়গায় স্থির হইয়। দীড়াইয়া জল একবার উঁচু এবং আর একবার নীচু হইতে থাকে, ইহাতেই ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। তোমরা যদি ভালো করিয়া দেখ, তবে জানিতে পারিবে, পুকুরের জলে যে ফুল বা লতাপাতা ভাসিতে থাকে, তাহ! কখনই জলের এঁ-রকম ঢেউয়ে দুরে যায় না। জল যেমন উচু-নীচু হয়, সেগুলি একই জায়গায় দাড়াইয়৷ জলের সঙ্গে তালে তালে সেই-রকম উচু-নীচু হয় মাত্র

আমরা এপর্যন্ত যাহা বলিলাম, তাহা বদি তোমরা বুঝিয়া থাক,_তবে শব্দ কি-রকমে উৎপন্ন হয়, এখন তাহাও তোমরা বুঝিবে।

পুকুরের জলে কোনো জায়গায় টিল ফেলিলে যেমন সেখান হইতে ঢেউ উৎপন্ন হয়, তোমাদের স্কুলের বড় পেটা” ঘড়িটাকে মুগ্ুর দিয়া পিটাইলে সেখান হইতে সেই-রকম-

শব্দের উৎপত্তি ৩১

ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। তোমরা হয় ভাবিতেছ,__জলে ঢেউ হওয়া বিচিত্র নয়, কিন্তু শুকনা খট্খটে ঘরে ঘণ্টা বাজাইলে সেখানে কোথা হইতে ঢেউ হইবে? কিন্তু সত্যই ঢেউ হয়। ডাঙায় জল নাই সত্য, কিন্তু সব জীয়গ! জুড়িয়া বাতাস আছে। ঘড়ি পিটাইলে যে ঢেউ হয়, সে বাতাসেরই ঢেউ।

কেবল ঘড়িই যে বাতাসে ঢেউয়ের স্থষ্টি করে, তাহা নয়। যখন কলের বাশি বাজে, যখন রাস্তায় গাড়ী চলে, যখন ফেরিওয়ালা “বরফ চাই” বলিয়া হাক দেয়, তুমি যখন গলা ছাড়িয়া পড়া মুখস্থ কর এবং রাডীর সেই পোষ! বিড়ালটা যখন মিউ-মিউ করিয়া ডাকে, তখনো বাতাসে ঢেউয়ের স্টি হয়। বাতাস দেখা যায় না, কাজেই তাহার ঢেউও দেখা যায় না। দেখা গেলে জানিতে পারিতে,_- পাখীর ডাকের, মানুষের চীৎকারের এবং আরো কত শব্দের ঢেউয়ে সমস্ত আকাশটা ভরিয়া আছে।

শব্দের ঢেউ কি-রকমে উৎপন্ন হয়, এখন সেই কথাটা বলিব। মনে কর, তোমাদের কীসার বড় বাটিটা হাত ফস্কাইয়া যেন হঠাৎ মাটিতে পড়িয়া শব্দ করিতে লাগিল কি বিশ্রী আওয়াজ ! তুমি তাহাতে হাত দিয় শব্দ বন্ধ করিয়া দিলে। শব্দ করিবার সময়ে এই সকল জিনিস যে কাপে তাহা! তোমরা দেখ নাই কি? হাত ছৌঁয়াইলেই কাপুনি বন্ধ হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাহার শব্দও বন্ধ হয়। কেবল কীসার বাটিই যে কীপিয়া শব্দ উৎপন্ন করে, তাহা

৩২ বিজ্ঞানের গল্প

নয়। যেখানে শক হয়, সেখানে কোনো একটা জিনিস কীপিয়াই শব্দের সৃষ্টি করে। যখন কীসার ঘণ্টা এবং পেটা-ঘড়ি বাজে, তখন হাত দিয়! দেখিলে সেগুলির কীপুনি তোমরা স্পষ্ট বুঝিতে পরিবে। তুমি যখন কথা বল তখন গলার ভিতরকার একটা বিশেষ যন্ত্র কাপে; বেহালা হইতে যখন স্ুর বাহির হয়, তখন তারগুলি কাপে; রাস্তার উপর দিয়া যখন গাড়ী চলিয়া যায়, তখন তাহার চাকা কাপে এবং ঘোড়ার খুরের ধাক্কায় রাস্তর পাথর কীপে; তবলায় টাটি দিলে ব। ঢাক-ঢোল বাজাইলে সেগুলির উপরকার ঢামড়া কাপে। কোনো৷ জিনিসের কাপুনি কি-রকমে শব্দের উৎপত্তি করে, এখন তাহাই বুঝিতে হইবে মনে কর, স্নানের সময়ে তুমি চৌবাচ্চার জলে হাত ডুবাইয়া হাতখানিকে কীপাইতেছ ইহাতে হাতের কীপুনির সঙ্গে পাশের জল ধাক্কা পাইয়া কীপিয়া উঠিবে না কি? নিশ্চয়ই কীপিবে, তোমরা ইহা পরীক্ষা করিয়া দেখিয়ো। আমরা কাসর-ঘণ্টা বাজাইয়া বা ঢাক-ঢোল পিটিয়া যখন কীপুনির স্্টি করি, তখন তাহাতে চারিপাশের বাতাসও কীপিয়া উঠে। তার তরে উহ্থাই জলের ঢেউয়ের মত চারিদিকে ছুটিয়া চলে। জল উচু-নীচু হইয়া যেমন ঢেউয়ের স্থষ্টি করে, বাতীস ঠিক সে-রকমে ঢেউ উৎপন্ন করে না। বর্ষার দিনে কেঁচো কি-রকমে মাটির উপর দিয়া চলে,_তোমরা দ্রেখ নাই কি? সে দেহটিকে একবার কুঁচ্কাইয়া পরক্ষণেই লম্বা করিয়া ফেলে,_ ইহাতে

শব্ষের উৎপ্তি ৩৩

সে সম্মুখের দ্রকে আগাইতে পারে। বাতাসের ঢেউকে কতকটা কেঁচোর চলার মত বলা যাইতে পারে। ঘযে-জিনিস কাপিতেছে, তাহার কীপুনির ধাক্কায় পাশের বাতাস একবার

ঘণ্টার শব্দের ঢেউ

সঙ্কুচিত হইয়! পরক্ষণেই প্রসারিত হইয়া পুড়ে এবং তার পরে সেই বাতানই আবার তাহার পাশের স্থির বাতীমকে সেই- রকমে কাপাইতে থাকে এই-রকমে জলের ঢেউয়ের মত একটা বাতাসের ঢেউ চারিদিকে ছুটিয়া চলে। এই ঢটেউ-ই শব্দের ঢেউ। ইহা আমাদের কানের ভিতরে আসিয় পৌছিলে আমরা শব্দ শুনিতে পাই

সুতরাং বোধ ভ্য় বুঝিতে পারিতেছ, বাতাসের টেউ- দ্বারাই শব্দের শৃষ্টি হয়, এবং বাতাসই শব্দকে বহিয়া কানে পৌছাইয়া দেয়। যেখানে বাতাস থাকে না,__সেখানে শব্দও হয় না। একটা কাচের ফাঁকা গোলার মধ্য হইতে বাতাস বাহির করিয়া যদি সেখানে খুব জোরে ঘণ্টা বাজানো যায়, তাহা হইলে একটুও শব্দ হয় না। তোমরা বড় হইয়া যখন বিজ্ঞানের বড় বড় বই পড়িবে, তখন এই-সব পরীক্ষা নিজেরাই করিতে পারিবে রি

3

রঙিন আলে

(েয়ালগিরি ঝাড়লনে যে-সব তে-শিরে কাচ বুল্মনো থাকে, তোমরা হয় তাহা দেখিয়াছ। তোমাদের কাহারো! কাহারে! বৈঠকখানা-ঘরে হয় এ-রকম কাচ দেয়ালগিরিতে লাগানো আছে। তে-শিরে কাচের উপরে রৌদ্র পড়িলে, তাহাতে কি সুন্দর রঙ্‌ই দেখা যায়। তখন লাল গোলাপী সবুজ নীল বেগুনে প্রভৃতি রামধনুর সব রঙ্গুলিই যেন দেয়ালের গায়ে পড়ে। আমরা যখন তোমাদের মত ছোট ছিলাম, তখন দেয়ালগিরির একখানা ভাঙ কচ পাইলে যে কি আনন্দ হইত, তাহা আজও মনে আছে।

তার পরে জলে তেল ফেলিলে জলের উপরে যে তেলের সর ভাসে, তাহাতে কত রকম রকম রঙ্‌ ক্ষণে দেখা দেয় এবং ক্ষণে মিলাইয়া যায়,-ইহা তোমরা দ্রেখ নাই কি? স্নানের সময়ে তোমরা যখন সাবানের ফেন! গায়ে মাখো, তখন রৌদ্র পাইলে ফেনাগুলি ঠিক এরকমই নানা রঙের সৃঠটি করে। ঘাম ব। পাতার ডগায় প্রাতঃকালে যে-নব শিশিরের বিন্দু ঝুলিতে থাকে, সুধ্যের আলোয় তাহাতে যে- সব রঙ্‌ দেখা যায়, সেগুলিও হয় তোমরা দেখিয়াছ।

সূর্যের সাদা আলে! তে-শিরে কাচ বা সাবানের ফেনায় পাঁড়লে কেন রামধনুর মত হাজার রঙের স্্টি করে, সেই. কথাটাই তোমাদিগকে বলিব।

রডিন আলো ৩৫

ঈথরের খুব ছোট ছোট ঢেউ চোখে আঙিয়া ধাক্কা দিলে, আমরা আলে! দেখি, এই কথা তোমরা আগেই শুনিয়াই। তোমরা বোধ হয় তখন মনে করিয়াছিলে, সূর্য্য হইতে বা অন্য আলো হইতে বুঝি একই আকারের ঢেউ বাহির হইয়া আমাদের চোখে ধাক্ক! দ্বেয়। কিন্তু তাহ! নয়। পুকুরের স্থির জলে এলোমেলো ভাবে চিল ছুঁড়িলে, সকল টিলে একই রকমের ঢেউয়ের স্থটি হয়কি? কখনই হয় না। ছোট টিলে ছোট চেউ এবং বড় চিলে উচু-উচু বড় ঢেউ উৎপন্ন হয়। বৈজ্ঞানিকগণু বলেন, আগুনের ভিত্তরকার বাস্পের অণু-পরমাণু নানা-রকমে কীপিয়া যখন ঈথরে ঢেউ তোলে, তখন তাহাতেও একই রকমের ঢেউ উঠে না। সেখানে ছোট বড় নানা-রকমের ঢেউয়ের স্থষ্টি হয় এবং সেগুলি একত্র জটলা করিয়৷ প্রতি সেকেগ্ডে নয় কোটি কুড়ি লক্ষ মাইল বেগে ছুটিয়া চলে।

পুকুরের জলের ছোট ঢেউ এবং বড় ঢেউয়ের মধ্ো বিশেষ কোনো তফাৎ দেখিতে পাওয়া যায় না। বড় ঢেউ জোরে ধাক্কা! দেয় এবং ছোট ঢেউ আস্তে আস্তে ধাক্কা দেয়, কেবল এই তফাৎটাই আমর! বুঝিতে পারি। কিন্তু ঈথরের . ছোট এবং বড় ঢেউয়ের মধ্যে তফাৎ অনেক। ইহাদের মধ্যে যেগুলি খুব ছোট তাহারা এক ইঞ্চিকে উনচল্লিশ হাজার ভাগ করিলে যতটুকু হয় ততখানি লম্বা। কেবল এই ঢেউ যদ্দি আমাদের চোখে আসিয়া পড়ে, তবে আমরা

৩৬ বিজ্ঞানের গল্প

বেগুনে আলো দেখিতে পাই। ইহার চেয়ে যেগুলি একটু বড় তাহা আমাদিগকে নীল আলো দেখায়। এই-রকমে ঢেউ যেমন একটু-একটু করিয়া লম্বা হয়, তেমনি তাহাদের প্রত্যেকটি হইতে আমরা নীল সবুজ হলুদ লাল প্রভৃতি র্‌ দেখিতে পাই। যে ঢেউয়ে আমরা লাল রঙ্‌ দেখি, লম্বায় সেইগুলিই সকলের চেয়ে বড়। সাড়ে-পঁয়ত্রিশ হাজার লাল রঙের ঢেউ গায়ে গায়ে মিলিলে এক ইঞ্চি লন্বা হয়।

তোমরা হয় ভাবিতেছ, সাধারণ আলোর ঢেউয়ে যদি এতই রকম-রকম ঢেউ মিশানো থাকে, তবে আমরা কেন সূর্যের আলো ৰা প্রদীপের আলোতে এ-সব রড দেখিতে পাই না? বৈজ্ঞানিকগণ এই কথার যে উত্তর দিয়াছেন, তাহ। বড় মজার। তীহারা পরীক্ষা করিয়া দেখিয়াছেন, যখন লাল গোলাগী হলুদ সবুজ ইত্যাদির ছোট- বড় সব ঢেউ এক সঙ্গে আসিয়া চোখে ধাক। দেয় তখন আমরা ধবধবে সাদা আলো দেখি। সুধ্যের বা প্রদীপের আগুন হইতে সব-রকম ঢেউ এক সঙ্গে বাহির হয় এবং নেগুলি একই সঙ্গে আসিয়া চোখে পড়ে, তাই এসব আলো সাদা সুতরাং জানিয়া রাখ,_-লাল হলুদ সবুজ ইত্যাদির ঢেউ এক সঙ্গে চোখে ধাক। দিলে আমরা কেবল সাদা রঙ্ই দেখি।

পুজার সময়ে বা! দেয়ালির রাত্রিতে-তোমর! যে লাল ফুলঝুরি জ্বালাও, তাহার আলো! কেমন সুন্দর লাল হয়,

রডিন আলো ৩৭

তাহা নিশ্চয়ই দেখিয়াছই। এই আলোর আগুন হইতে যে- সব ঢেউ বাহির হয়, তাহাতে ছোট-বড় সব-রকমের ঢেউ মিশানো থাকে না-_যে ঢেউয়ে লাল রউ্‌ দেখায়, কেবল সেই-গুলিই আগুন হইতে বাহির হইয়া তোমার এবং আমার চোখে ধাকা দেয়। তাই আমরা কেবল লাল রউ্ই দেখি। সবুজ আলোর ফুলঝুরিও বাজারে কিনিতে পাওয়া যায়। তোমরা ইহার আলো দেখ নাই কি? আমরা যখন তোমাদের মত ছোট ছিলাম, তখন অনেক ফুলঝুরি পোড়াইয়াছি। এগুলি হইতে কেন সবুজ আলো বাহির হয়, এখন তোমরা নিজেরাই বলিতে পারিবে সবুজ ফুলবুরিতে আগুন দিলে লাল হলুদ নীল প্রভৃতি রডের ঢেউ ঈথরে জন্মে না,যে ঢেউ চোখে ধাক্কা দিলে সবুজ রঙ দেখায়, কেবল সেই-রকমের ঢেউ উৎপন্ন হয়। কাজেই সেগুলি যখন ফুলঝুরির আগুন হইতে বাহির হইয়া তোমাদের চোখে ধা দেয়, তখন তোমরা কেবল সবুজ আলোই দেখিতে পাও।

এক-রকম ঢেউ চোখে পড়িয়া কেন লাল আলো দেখায় এবং অন্য এক-রকম ঢেউয়ে কেন বেগুনে বা অপর রঙ দেখা যায় তোমরা বোধ হয় এখন তাহাই জানিতে চাহিতেছ কিন্তু সে-সন্বন্ধে কোনো কথা তোমাদিগকে এখন বলিব না। বড় বড় পণ্ডিত এই ব্যাপার লইয়! অনেক পরীক্ষা করিতেছেন কিন্তু তথাপি ছোট-বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় ভিন্ন ভিন্ন রঙ্‌

৩৮ বিজ্ঞানের গল্প

কি-রকমে চোখে ফুটিয়৷ উঠে তাহা ঠিক জানা যায় নাই। বেহাল| বা এস্রাজ বাজাইলে কেমন মিষ্ট শব্দ বাহির হয়, তাহা তোমরা নিশ্চয়ই শুনিয়াছ,-যেন কান জুড়াইয়। যায়। তার পর গাধার চীৎকার কি বিশ্রী তাহাও বোধ হয় তোমরা শুনিয়াই। গাধা আকাশপানে মুখ তুলিয়া আনন্দে গান জুড়িয়৷ দিলে, কানে আঙুল দিতে হয়। গাধার ডাক এবং বেহালার আওয়াজ দুই-ই শব্দ,-তবে কেন একট। শব্দ ভালে! এবং আর একটা শব্দ মন্দ লাগে, তাহা বলা কঠিন। সেই-রকম একই ঈথরের এক-রকম ঢেউয়ে আমরা কেন লাল রঙ দেখি এবং আর এক-রকমে কেন হল্দে দেখি, তাহার উত্তর দেওয়াও কঠিন তোমরা বড় হইয়। এ-সম্থান্ধে অনেক কথ! জানিতে পারিবে।

যাহা হউক, আলোর নানা-রকম টেউ-সম্বন্ধে যে-সব কথা বলিলাম, তোমর! বোধ হয় তাহা বুঝিয়াছ। যদি বুঝিয়া থাক, তবে তে-শিরে কাচ, সাবানের ফেনা বা শিশিরের বিন্দুর ভিতর দিয়া সুয্যের আলো বাহিরে আসিলে, তাহাতে কেন এত স্থন্দর রড. হয়, তাহাও তোমরা এখন বুঝিতে পারিবে

একটা উদাহরণ দেওয়া যাউক। মনে কর, কাক বক শালিক কোকিল ফিডে বাবুই চড়াই সব পাখীর এক জায়গায় নিমন্ত্রণ হইয়াছে। ইহারা সকলে মিলিয়া একট প্রকাণ্ড ঝাক বাঁধিল এবং ভয়ানক কিচির-মিচির করিতে

রডিম আলো ৩৯

করিতে নিমন্ত্রণ খাইতে চলিল। ছোট-বড় পাখীদের এক সঙ্গে নিমন্ত্রণ খাইতে চলা এবং ঈথরের ছোট-বড় ঢেউয়ের এক সঙ্গে ছুটিয়া আসা একই ব্যাপার নয় কি? পাখীর ঝাকে চিল শকুন কাকের মত বড় পাখী এবং চড়াই বাবুইয়ের মত ছোট পাখী থাকে। সূর্য্য হইতে বা! প্রদীপ *হইতে যে আলোর ঢেউ ছুটিয়া আসে, তাহাতেও লাল হল্দে রডের ঝড় ঢেউ এবং (গুনে প্রভৃতি রডের ছেট ঢেউ€ থাকে। এখন মনে কর, যে জঙ্গলে নিমন্ত্রণ ছিল, পাখীরা বাক বাঁধিয়৷ সেখানে পৌঁছিয়। ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ হইয়া পড়িল। কাকেরা একটা ছোট গাছে চড়িয়া “কা-কা” স্থরু করিয়া দিল, ফিডেরা বাঁশ-ঝাড়ের আগৃ্-ডালে লেজ ঝুলাইয়া বসিয়া শিশ দিতে লাগিল এবং শালিকের। নিম- গাছের পাতার আড়ালে জমা হইয়া গলা ফুলাইয়া ঘাড় বাকাইয়। “কৌকর-কৌকর-_আচ্চা-আচ্চ|” অর্থাৎ “শী খাবার চাই” বলিতে আরম্ভ করিল। এখন তোমরা আর পাখীর ঝাক দেখিতে পাইবে না,__ভিন্নভিন্ন গাছে পাখী- দের ভিন্ন-ভিন্ন দলই দেখিবে। সৃষ্যের আলোর লাল নীল সবুজ প্রভৃতি সকল রঙের ছোট-বড় ঢেউ তে-শিরে কাচের ভিতরে যাইবার সময়ে পাখীর ঝাকের মতই এক সঙ্গে প্রবেশ করে। কিন্তু কাচ হইতে বাহির হইবার সময়ে সে- ঝাক আর থাকে না। তখন লাল, নীল, সবুজ প্রভৃতি প্রত্যেক ঢেউ আলাদা হইয়া আলাদা রাস্ত। ধরিয়া! তোমাদের

৪০ বিজ্ঞানের গল্প

চোখে আদিয়া৷ পড়ে। কাজেই এই সময়ে তোমরা লাল আলোর বড় বড় ঢেউতে লাল, সবুজের ঢেউতে সবুজ, এবং নীল